প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কর্তৃক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে, তবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও মাদুরোর মতো আটক করে বিচার করা উচিত।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী চিন্তাবিদ হাসান রহিমপুর আজঘাদি আজ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
ইরানি সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজঘাদি মনে করেন ট্রাম্পের খামখেয়ালি ও স্বৈরাচারী আচরণ বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন হোক বা শাসনকাল শেষ হওয়ার পর, ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সময়ের দাবি।
গত সপ্তাহে মার্কিন অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো একজোট হতে শুরু করেছে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘গুগল ম্যাপ’ দেখে দেখে তাদের অপছন্দের রাষ্ট্রপ্রধানদের সরিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে। তেহরানের এই কড়া বার্তার পর পেন্টাগন পারস্য উপসাগরে তাদের সামরিক সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় (বর্তমানে ট্রুথ সোশ্যাল) জানিয়েছেন, "ইরান অনেকদিন ধরেই বড় বড় কথা বলছে। তারা যদি সীমা অতিক্রম করে, তবে মাদুরোর পরিণতি তাদের জন্যও অপেক্ষা করছে।" ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই শুরুটা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত। একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অন্যদিকে ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে ইরান দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘরোয়া রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান নিজ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চলছে।
ট্রাম্পকে গ্রেফতারের দাবি তুলে ইরান আসলে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, ক্ষমতার দাপট চিরস্থায়ী নয়। আগামী কয়েক দিন এই দুই শক্তির বাগযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক তেলের বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।