প্রকাশিত:
গতকাল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত আড়াই মাসে (১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা ও মসুর ডালের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন, যা গতবারের চেয়ে ২৪ হাজার টন বেশি। এছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি ১৫% বেড়ে ৬ লাখ ৭৪ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
রমজানে ৩ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টন (বৃদ্ধি ৩৯%)।
২ লাখ ২৯ হাজার টন আমদানি হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৪৩% বেশি।
আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন। রমজানে ১ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে এই পরিমাণ সন্তোষজনক।
মটর ডালের আমদানি গতবারের চেয়ে ৮১% কমেছে, যার প্রভাবে বাজারে পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বন্দরে নতুন জাহাজ থেকে খালাস প্রক্রিয়া চলছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ডিসেম্বর থেকে রমজানের পণ্য আমদানি শুরু হলেও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক আন্দোলন ও লাইটার জাহাজ সংকটে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। এর ওপর ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা ছুটির কারণে ট্রাক ও চালকের সংকট তৈরি হওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পাইকারি বাজারে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, "পণ্য আমদানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সন্তোষজনক। তবে সামনের এক সপ্তাহ কারখানা থেকে বাজারজাতকরণে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে সংকটের কোনো সুযোগ নেই।"
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাহিদা ও আমদানির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলেও নির্বাচনের কারণে পণ্য পৌঁছাতে কিছুটা ব্যত্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, "আগামী কয়েক দিন কারখানা বা গুদাম থেকে পণ্য বাজারজাতকরণে বিশেষ নজরদারি দরকার। তাহলেই মূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।"
এদিকে খেজুরের আমদানি আড়াই শতাংশ কমলেও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন যে, হিমাগারে পর্যাপ্ত মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা নতুন চালান খালাস হলে কোনো সংকট হবে না।
বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই, তবে কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরবরাহ চেইন সচল রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।