প্রকাশিত:
গতকাল

জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের পৌর নির্বাচনে মাঞ্চেরিয়াল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ৯ নম্বর ডিভিশন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিজেপির প্রার্থী জাদি তিরুপতি। নির্বাচনে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক দু-তিন দিন আগে ওই প্রার্থী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে গোপনে টাকা বিলি করেছিলেন। তাঁদের আশা ছিল, এই অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত জয় আসবে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ওই প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে হেরে জামানত হারিয়েছেন।
ফলাফল ঘোষণার পরদিন সকাল থেকেই পরাজিত প্রার্থীর স্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়কে লাঠিসোঁটা ও হিসাবের খাতা নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে হানা দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের শাসাচ্ছেন এবং বলছেন, "ভোট যখন দেননি, তখন আমাদের দেওয়া টাকা খাওয়ার অধিকার আপনাদের নেই। টাকা ফেরত দিন।"
ভিডিওতে দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থীর স্ত্রী রূপা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ঈশ্বরের নামে শপথ করতে বলছেন; তারা তিরুপতিকে ভোট দিয়েছেন কি না। অভিযোগ রয়েছে, যারা ভোট না দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি দেওয়া তিন হাজার রুপি ফেরত নেওয়া হচ্ছে।
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। কারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানো নির্বাচনি বিধি ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থি।
টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়ে প্রার্থীর পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, "আমরা মানুষের বিপদে-আপদে সাহায্য করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সাথে বেঈমানি করেছে। যারা আমাদের কথা দিয়েও কথা রাখেনি, তাদের থেকে আমরা আমাদের পাওনা বুঝে নিচ্ছি।" তবে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী টাকা লেনদেন যে দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ভ্রুক্ষেপ দেখা যায়নি।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের আগে বা পরে টাকা লেনদেন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু হারের পর ভোটারদের বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার এই ঘটনা কেবল অনৈতিক নয়, বরং এটি আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির এক নগ্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। এটি প্রার্থীর দেউলিয়াত্ব এবং জনগণের সচেতনতার অভাব—উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও, এই ভিডিওগুলোই বলে দিচ্ছে, তথাকথিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতে এখনো অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা হয়।