প্রকাশিত:
গতকাল

দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মোদি সেই আমন্ত্রণপত্রটি গ্রহণও করেন।
তবে একই সময়ে ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর ভারত সফরের কারণে নরেন্দ্র মোদি নিজে আসতে পারছেন না। মাক্রোঁর সঙ্গে মুম্বাইয়ে তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তাই নিজের পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি নিজে না এলেও ভারতের একজন সাংবিধানিক প্রধান (স্পিকার) এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাকে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি বেশ ইতিবাচক।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওম বিড়লার এই সফর দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে দিল্লির পক্ষ থেকে স্বাগত জানানোর একটি মাধ্যম।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যে এক ধরনের শীতলতা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের শপথে ভারত ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই অনুষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করবেন।
ভারত বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সাথে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রির এই সফরটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘রিসেট’ বা নতুন করে যাত্রা শুরুর একটি বড় বার্তা বহন করছে।