প্রকাশিত:
২৬ নভেম্বর, ২০২৫

আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার দুটি খোলা হয়। লকার খোলার সময় এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানায়, রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় (সাবেক স্থানীয় কার্যালয় শাখা) শেখ হাসিনার দুটি লকার ছিল। সম্পদের তথ্য গোপন করে কর ফাঁকির অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে এনবিআরের সিআইসি তা জব্দ করে। অগ্রণী ব্যাংকের এই লকার দুটি জব্দ করার এক সপ্তাহ আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকে থাকা শেখ হাসিনার আরেকটি লকার জব্দ করে এনবিআরের সিআইসি। সেটি রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকার। পূবালী ব্যাংকের একই শাখায় শেখ হাসিনার দুটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি হিসাবে ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং আরেকটি হিসাবে ৪৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইসির শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতি মেনে লকার দুটি খুলেছি। সেখানে ৮৩২ ভরি সোনার গয়না পাওয়া গেছে। এখন ওনার (শেখ হাসিনা) আয়কর রিটার্নে দেওয়া সম্পদ বিবরণীর সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।
এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই আদালত তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিনই পালিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকি ও দুর্নীতির তদন্তে নামে। এনবিআর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করছে। অন্যদিকে দুদক শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। ইতিমধ্যে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানাসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।