প্রকাশিত:
২০ নভেম্বর, ২০২৫

মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ব্যক্তিগতভাবে বড় ইনিংস খেলেছেন, আর তাদের দুজনের জুটির ওপর ভর করে বাংলাদেশ তৈরি করেছে নতুন ইতিহাসও। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুজনের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল জমা করেছে বড়সড় ৪৭৬ রান। তবে আয়ারল্যান্ডের হয়ে স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের দ্বিতীয় ক্যারিয়ার ফাইফারও এই রান পাহাড় আটকে রাখতে পারেনি।
প্রথম দিন ৪ উইকেটে ২৯২ রানে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই আগেরদিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজের শততম ম্যাচে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। তার ১০৬ রানের ইনিংস থামার পর সেঞ্চুরির দেখা পান লিটন দাস। পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করা লিটনের ব্যাট থেমেছে ১২৮ রানে। দুই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান দেন মুমিনুল হক (৬৩) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৪৭)।
একই ইনিংসে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে তিনটি শতরানের জুটি গড়ে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কেবল ভারত (১৯৭৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) এবং পাকিস্তান (২০২৩, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে) এই সাফল্য পেয়েছিল।
বাংলাদেশের আজকের তিন জুটি ছিল, মুশফিক–মুমিনুল: ১০৭ রান (৪র্থ উইকেট), মুশফিক–লিটন: ১০৮ রান (৫ম উইকেট), লিটন–মিরাজ: ১২৩ রান (৬ষ্ঠ উইকেট)।
মুশফিক ও লিটন মিলে টেস্টে সপ্তমবারের মতো বাংলাদেশকে এনে দিলেন শতরানের জুটি, যা দেশের রেকর্ডের শীর্ষে। প্রথম দিনে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, আজ তা আরও মজবুত করেন তারা। মুশফিককে ২১৪ বল খেলে ৫ চার মেরে ফেরান ম্যাথু হামপ্রিস। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে মুমিনুলের সাথে যৌথভাবে তিনি স্পর্শ করলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৩ টেস্ট সেঞ্চুরির মাইলফলক।
লিটন–মিরাজের জুটি ভাঙে গ্যাভিন হোয়ের বলে মিরাজ ৪৭ রানে ফিরলে। পরে লিটনও দ্রুত রান তুলতে গিয়ে সুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন। ১৯২ বল খেলে তিনি ৮ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ১২৮ রান।
ইনিংসের শেষদিকে ছোট কিন্তু দ্রুতগতির ১৮ রানের ক্যামিও খেলেন এবাদত হোসেন। তার ৩ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ৪৭৬ রানে।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে অভিজ্ঞ অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন নেন সর্বোচ্চ ৬ উইকেট। এছাড়া হামপ্রিস ও হোয়ে, দুজনই পান ২টি করে উইকেট।