প্রকাশিত:
১৯ নভেম্বর, ২০২৫
.jpg&w=3840&q=75)
ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এবং লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী এই বিজয়ের রাতে আবারও আলো কেড়েছেন।
গোলদাতা মোরছালিন নায়ক হলেও, হামজার দুর্দান্ত হেডে নিশ্চিত গোল বাঁচানো ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তাঁর নৈপুণ্যের কারণে লেস্টার সিটির ইউটিউব থেকে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য প্রতিনিধি ও নিরাপত্তাকর্মী ঢাকায় এসেছেন, যা বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করছে। হামজা এখন বাংলাদেশ দলের শক্তির নিয়মিত উৎস। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন প্রবাসী ফুটবলার (যেমন জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী) জাতীয় দলে যোগ দেওয়ায় দল আগের চেয়ে শক্তিশালী ও লড়াকু হয়েছে, যা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সমীহ আদায় করছে।
ভারতকে হারানোর এই জয়, মাঠে আসা দর্শকদের ভিড় (কালোবাজারে ৬০০ টাকার টিকিট ৩০০০ টাকায় বিক্রি), এবং ফুটবলের প্রতি নতুন করে তৈরি হওয়া আগ্রহ—সবই আশার সঞ্চার করে। কিন্তু এই উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামোগত বিপর্যয়। ইতিহাসে সেরা শক্তির দল নিয়েও বাংলাদেশ ২০২৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠতে পারেনি। ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হার বা অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করাই এর কারণ। এই ব্যর্থতা হামজাদের মতো খেলোয়াড় থাকার পরও জাতীয় দলের বড় লক্ষ্য পূরণে দুর্বলতা তুলে ধরে।
জাতীয় দল ২২ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে না। এর মূল কারণ হলো অধিকাংশ ক্লাবের নিজস্ব মাঠ, সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষকতা নেই। ক্লাবগুলোতে পেশাদারত্বের অভাব (৯০% ক্লাবে নেই পেশাদারত্ব, এমনকি ওয়েবসাইটও)।ফুটবলাররা নিয়মিত বেতন পান না; কোটি টাকার খেলোয়াড়ের দাম নেমে এসেছে ৪০ লাখে। নিচের লিগগুলো অনিয়মিত এবং বহু জেলায় ঘরোয়া ফুটবল প্রায় মৃত।
বাফুফে বড় ম্যাচের আগে চাকচিক্য দেখালেও তৃণমূল ফুটবল অবহেলিত। রেফারিরা সময়মতো পারিশ্রমিক না পেয়ে ধর্মঘটে যান, বহু জেলায় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিষ্ক্রিয়।
মুনিজায়ে জাহাঙ্গীরের উক্তি: "এই আলোর মাঝে নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, কদিন আগে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক স্পনসর ছাড়াই।"
হামজা-জামালদের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা সাময়িক সাফল্য এনে দিলেও, একটি ফুটবল দল শুধু ফরোয়ার্ড বা প্রবাসীদের ওপর নির্ভর করে দাঁড়াতে পারে না। ফুটবল উন্নয়নের আসল ভিত হলো: ১. সুদৃঢ় ক্লাব কাঠামো ও লাইসেন্সিং কঠোর করা। ২. দেশের সব জেলায় নিয়মিত লিগ চালু করা। ৩. মাঠ সংস্কার, কোচিং সেন্টার ও রেফারিদের সম্মান নিশ্চিত করা। ৪. কিশোর লিগ, যুব লিগ ও অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিয়মিত করা। বাফুফে ও ক্রীড়া প্রশাসনকে বুঝতে হবে, ঘরোয়া লিগ হলো সেই পুকুর, যেখানে জাতীয় দল নামক রাজহাঁস ভাসে। পুকুর শুকালে রাজহাঁস বাঁচবে না। জাতীয় দলকে বাঁচাতে হলে এই নিচের কাঠামোকে বাঁচাতে হবে।