প্রকাশিত:
গতকাল

২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলাসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর সাকিবের ফেরার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হলেও, সাকিব নিজে এখনো কোনো সবুজ সংকেত দেননি।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি সান-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সাকিব বলেন, “আপনারা অনেক দূর চিন্তা করে ফেলছেন। আগে আমাকে দেখতে দিন সামনের দিনগুলোতে কী হয়।”
সাকিব ইস্যুতে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের সুর আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়। নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নির্ভর করবে তাঁর ফর্মের ওপর।
মির্জা ফখরুল স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি খেলার মধ্যে রাজনীতি আনা পছন্দ করেন না। যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সাকিবের খেলার দরজা খোলা থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন আরও এক ধাপ এগিয়ে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, সাকিব ও মাশরাফীর বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’।
ইশরাক বলেন, “তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্পদ। আমার মনে হয় না তারা নির্দেশ দিয়ে কাউকে হত্যা করেছে। তবে যদি দুর্নীতি বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকে, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তা খতিয়ে দেখতে পারে।”
বিএনপি নমনীয় হলেও সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাগুলো এখনো আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ইশরাক হোসেনের বক্তব্যেও ইঙ্গিত মিলেছে যে, গণহত্যার মামলা থেকে রেহাই পেলেও আর্থিক দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মুখে পড়তে পারে।
আইনি নিশ্চয়তা এবং সামাজিক পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সাকিব দেশে ফেরার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাকিব এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে তাঁর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। বিসিবি-র নতুন নেতৃত্ব এবং সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
সাকিবের ফেরা নিয়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা আছে, তেমনি আছে বিতর্কও। তবে সাকিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সময় নিচ্ছেন।