news@weeklyinqilab.com|| 86-11 101 AVENUE, OZONE PARK, NY, 11416, USA
ব্রেকিং:

বাণিজ্য

এলপিজি সংকট: জানুয়ারি ছাড়িয়ে ফেব্রুয়ারিতেও বিপাকের শঙ্কা

Next.js logo

প্রকাশিত:

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন:

নাঈমা জামান স্বর্নালী: দেশে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির (LPG) তীব্র সংকট কেবল জানুয়ারি মাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বড় কোনো পদক্ষেপ না নিলে ফেব্রুয়ারির শুরুতেও এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে ১৩০৫ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৬০০ টাকায়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলছে।

Thumbnail for এলপিজি সংকট: জানুয়ারি ছাড়িয়ে ফেব্রুয়ারিতেও বিপাকের শঙ্কা
ইনকিলাব

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি। অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টন আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার টনের একটি বড় ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে।

 

পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকোসহ বড় ৫টি কোম্পানি ব্যাংক থেকে এলসি (LC) সুবিধা না পাওয়ায় এলপিজি আমদানি করতে পারছে না।

 

ইরানে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের কারণে চীন সেখান থেকে গ্যাস নিতে না পেরে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস কেনা শুরু করেছে। ফলে বাজারেও সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

 

ইরানের গ্যাস পরিবহনের অভিযোগে ২২টি জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে জাহাজ সংকট প্রকট হয়েছে। এতে জাহাজ ভাড়া টন প্রতি ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


তাছাড়াও উন্নত দেশগুলো একবারে ১ লাখ টনের বড় জাহাজে এলপিজি কিনলেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ১০-২০ হাজার টনের ছোট জাহাজে আমদানির চেষ্টা করছেন। ফলে বিক্রেতারা বড় ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

 

অন্যদিকে, পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় বর্তমানে মোট এলপিজির ৩০ শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে শিল্প কারখানায়, যা গৃহস্থালি সরবরাহে টান ফেলছে।


বিইআরসি (BERC) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। সরকার জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা করছে। তবে সরকারিভাবে ১ লাখ টন এলপিজি আসতে মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

 

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্সের পরামর্শ অনুযায়ী, ফিলিপাইনের মজুদ থেকে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস আনার আলোচনা চলছে। এটি সফল হলে ৮-১০ দিনের মধ্যে দেশে এলপিজি পৌঁছানো সম্ভব।

 

আমদানিকারকদের দাবি, কোম্পানি পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত দামেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। লোটাব (LOAB) সভাপতি আমিরুল হক প্রশ্ন তুলেছেন, "কোম্পানি দাম না বাড়ালে ১৩০৫ টাকার গ্যাস বাজারে ২০০০-২৬০০ টাকায় কারা বিক্রি করছে?" খুচরা বাজারে এই অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তদারকি সংস্থার কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ।

 

একদিকে ডলার ও এলসি জটিলতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে রান্নার গ্যাসের বাজার এখন খাদের কিনারায়। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিজ্ঞাপন কর্নার

আমাদের সম্পর্কে

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিঃ শাহ নেওয়াজ

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ পাভেল মাহমুদ

ইংরেজি পাতার সম্পাদকঃ ফুহাদ হোসেন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ বদরুদ্দোজা সাগর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ জাহিদ আলম

স্টেশন ইনচার্জঃ মো: মিদুল ইসলাম মৃদুল

টেকনিক্যাল ইনচার্জঃ মো: রাশেদুজ্জামান রাজু

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এলপিজি সংকট: জানুয়ারি ছাড়িয়ে ফেব্রুয়ারিতেও বিপাকের শঙ্কা