প্রকাশিত:
গতকাল

গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনসিদ্ধ নয়। এই রায়ে ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একে ‘আমেরিকাবিরোধী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিকল্প হিসেবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের অধীনে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, এই নতুন হার আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বিশেষ বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নির্ধারিত ছিল। তবে মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক রায় এবং প্রেসিডেন্টের নতুন ঘোষণার পর এই চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিটি হয়তো বাতিল হয়ে যাবে, তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি বোঝা যাবে।”
এই চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ছিল। তাদের অভিযোগ:
নির্বাচিত সরকার আসার মাত্র কয়েক দিন আগে কেন এত তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তি করা হলো?
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক মনে করেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থহানি হওয়ার মতো অনেক ধারা আছে। এটি বাতিল হয়ে গেলে দেশের জন্যই মঙ্গল।
চুক্তির একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে তুলা ও অন্যান্য পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি। বিনিময়ে মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধার কথা বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, “যেহেতু দুই দেশের সংসদীয় অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই ৯ ফেব্রুয়ারির চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। এখন পুরো বিষয়টি নতুন করে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারকে অত্যন্ত কৌশলী হতে হবে এবং তড়িঘড়ি করে কোনো অবস্থান নেয়া ঠিক হবে না।”
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কও মার্কিন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে ঘন ঘন শুল্কহার পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য নেতিবাচক হতে পারে।