news@weeklyinqilab.com|| 86-11 101 AVENUE, OZONE PARK, NY, 11416, USA
ব্রেকিং:

বাণিজ্য

রংপুরের ঘনিরামপুর থেকে বিশ্ববাজারে: ৩ হাজার নারীর হাতের জুতা যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

Next.js logo

প্রকাশিত:

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন:

নাঈমা জামান স্বর্নালী: একসময়ের মঙ্গাপীড়িত রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম এখন বিশ্বজয়ের গল্প বলছে। অভাব আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত এই জনপদের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে রপ্তানিমুখী জুতার কারখানা ‘ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস’। এই কারখানায় তৈরি উন্নতমানের জুতা এখন পোল্যান্ড, জার্মানি, তুরস্ক, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শোরুমে শোভা পাচ্ছে।

Thumbnail for রংপুরের ঘনিরামপুর থেকে বিশ্ববাজারে: ৩ হাজার নারীর হাতের জুতা যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়
ইনকিলাব

দুই প্রবাসী ভাই মো. হাসানুজ্জামান ও প্রয়াত মো. সেলিমের হাত ধরে ২০১৭ সালে শুরু হয় এই যাত্রা। সাড়ে ৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় তাঁরা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবসায় সফল হওয়া এই দুই ভাই শেকড়ের টানে গ্রামে ফিরে এই বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন মো. হাসানুজ্জামান।


কারখানাটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল কর্মীবাহিনী। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ কাজ করছেন, যার ৮০ শতাংশই নারী। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এখানে নারী সুপারভাইজারদের মাধ্যমে তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা জেসমিন আরা জানান, কারখানাটি চালু হওয়ার পর এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ বেকারত্ব দূর হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ তৈরি করেছে।


কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ৫১০ জন আগে ঢাকা বা অন্যান্য শহরে কাজ করতেন। নিজ গ্রামে আধুনিক কর্মসংস্থান হওয়ায় তাঁরা শহর ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। প্যাকেজিং ইউনিটের শ্রমিক আদুরি রানী জানান, আগে ঢাকায় যা আয় করতেন তা বাসা ভাড়া আর খাওয়ার পেছনেই চলে যেত। এখন নিজ বাড়িতে থেকে কাজ করে তিনি বাড়তি টাকা সঞ্চয় করছেন এবং পরিবারকে সময় দিচ্ছেন।


ব্লিং লেদার মূলত সিনথেটিক জুতা উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এখানে কাজ করছেন বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও ভবিষ্যতে এটি ৫০ হাজার জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে।


স্থানীয় কুশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন, "ব্লিং লেদার প্রমাণ করেছে সঠিক বিনিয়োগ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে গ্রামেও বড় শিল্পায়ন সম্ভব। এটি এলাকার মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বপ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে।" কারখানার প্রভাবে স্থানীয় বেলতলী বাজারের বেচাকেনাও কয়েক গুণ বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।


ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান জানান, তাঁদের লক্ষ্য আরও বড়। নতুন ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে মোট ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। রপ্তানি বাজারের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই দেশের বাজারেও ‘ব্লিং লেদার’-এর জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন কর্নার

আমাদের সম্পর্কে

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিঃ শাহ নেওয়াজ

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ পাভেল মাহমুদ

ইংরেজি পাতার সম্পাদকঃ ফুহাদ হোসেন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ বদরুদ্দোজা সাগর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ জাহিদ আলম

স্টেশন ইনচার্জঃ মো: মিদুল ইসলাম মৃদুল

টেকনিক্যাল ইনচার্জঃ মো: রাশেদুজ্জামান রাজু

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

রংপুরের ঘনিরামপুর থেকে বিশ্ববাজারে: ৩ হাজার নারীর হাতের জুতা যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়