প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

ওই কর্মকর্তাকে ছাড়াতে সন্ধ্যা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল আলম প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) হিসেবে কর্মরত।
প্রসঙ্গত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার গত ২৩ আগস্ট মারা যান। পরবর্তীতে তার স্বামী নুরুন্নবী পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন। ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ করেন নুরুন্নবী। এরপর গতকাল বিকেলে ঘুষ লেনদেনের সময় দুদক কর্মকর্তারা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।
তাঁকে গ্রেপ্তার করে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে নেওয়া হলে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুদক কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুদকের কর্মকর্তারা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় শিক্ষকেরা পুনরায় গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধকারীদের একজন সদর উপজেলার দত্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জব্বর বলেন,‘এই জেলায় অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করেছি। কিন্তু আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।’ সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জামিনে বের করার চেষ্টা করব। জামিন না হলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সর্বশেষ যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেনের তথ্য অনুযায়ী মামলা শেষে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।