প্রকাশিত:
গতকাল
.jpg&w=3840&q=75)
আইএস তাদের নিজস্ব বার্তা মাধ্যমে জানায়, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে পিস্তল দিয়ে একজনকে গুলি করা হয়েছে। রাক্কা শহরে মেশিনগান দিয়ে আরও দুজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকার পর সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। গ্রুপটির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে এই ‘নতুন যুদ্ধের’ ডাক দেওয়া হয়েছে। আইএসের এই পুনরুত্থানের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও চরম অস্থিরতার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইএসের নতুন নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চল (বাদিয়া) এবং পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সরকারি চেকপোস্ট ও তেল খনিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তাদের ভাষায়, এটি বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে "চূড়ান্ত প্রতিশোধের যুদ্ধ"।
গত কয়েক বছরে রাশিয়ার সহায়তায় সিরিয়া সরকার অধিকাংশ অঞ্চল পুনর্দখল করলেও বাদিয়া মরুভূমি এবং আইডলিব সংলগ্ন এলাকায় আইএসের ছোট ছোট 'স্লিপার সেল' এখনো সক্রিয়। এই নতুন ঘোষণা আসাদ সরকারের প্রশাসনিক ও সামরিক সংহতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত এবং ইরান ইসরায়েলের সাথে উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মিত্রদের এই ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই আইএস তাদের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করছে।
গত এক সপ্তাহে সিরিয়ার হোমস ও দেইর এজ-জোর প্রদেশে আইএসের চোরাগোপ্তা হামলায় অন্তত ১৫ জন সিরীয় সেনা নিহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে তারা ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা চোরাগোপ্তা হামলা ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের কৌশল বেছে নেবে।
আইএসের এই নতুন ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ (SDF) বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার আইএস যোদ্ধা ও তাদের পরিবার বন্দি রয়েছে। নতুন অভিযান শুরু হলে এই বন্দিশালাগুলো ভাঙার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিরিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ফলে লাখ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত। যদি আইএস নতুন করে বড় কোনো শহর দখলের চেষ্টা করে, তবে নতুন করে শরণার্থী সংকট এবং চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়ার তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে হামলা হলে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএসের এই ঘোষণা মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। তারা দেখাতে চায় যে তারা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তবে সিরিয়া সরকার এবং তাদের মিত্ররা যদি দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা না নেয়, তবে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চল থেকে ইরাক সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।
সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে ধুলোর সাথে এখন আবার বারুদের গন্ধ মিশছে। বাশার আল-আসাদ সরকার এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় বাড়তি সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও এক কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে।