প্রকাশিত:
গতকাল

ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাতার ও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে কয়েকশ সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, পেন্টাগন এই পদক্ষেপকে একটি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘১০ দিনের আল্টিমেটাম’ এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারির পর এই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
পেন্টাগনের গোপন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে কয়েক শ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকেন। বাহরাইন থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী প্রত্যাহার নয় বরং সম্ভাব্য সংঘাতের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে একটি কৌশলগত ‘রিডিপ্লয়মেন্ট’ বা পুনঃমোতায়েন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি তেহরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে সমঝোতা করার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন, যার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যে সমাধান না হলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কাতার ও বাহরাইন সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অঞ্চলের দেশগুলো কোনো বড় আকারের যুদ্ধ এড়াতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেনা সরানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানে একটি ‘সীমিত আকারের’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর তেমনটি ঘটলে ইরান যাতে কাতার বা বাহরাইনের মতো কাছাকাছি থাকা ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই সেনাদের জীবন বাঁচাতে এই আগাম সতর্কতা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসন ও পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেছেন—এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। একদিকে মার্কিন রণতরীগুলোর আনাগোনা, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহার—সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।