প্রকাশিত:
গতকাল

২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি সরকার ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ভিসা ইস্যু করছে সৌদি দূতাবাস। এর মধ্যে কর্মসংস্থান ভিসার পাশাপাশি ওমরাহ ও টুরিস্ট ভিসাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সৌদি আরবের 'ভিশন ২০৩০' বাস্তবায়নে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য প্রচুর সংখ্যক দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে কনস্ট্রাকশন, আইটি, চিকিৎসা এবং সেবা খাতে কর্মী নেওয়ার হার গত কয়েক মাসে বহুগুণ বেড়েছে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে ডিজিটাল সিস্টেম এবং 'ফিংগারপ্রিন্ট' পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ভোগান্তি অনেক কমেছে।
যারা বর্তমানে সৌদি আরবে অনিয়মিত বা অবৈধভাবে আছেন, তাদের জন্য সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমা বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় বৈধ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর সৌদি আরবে গমনের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস। ১৪ লাখ নতুন ভিসা ইস্যুর অর্থ হলো, আগামী কয়েক বছরে দেশটিতে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সংখ্যা আরও শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ করা হয়েছে। নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই এখন বাংলাদেশিরা ওমরাহ ভিসার আবেদন করতে পারছেন।
রাষ্ট্রদূত আরব-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন এবং বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি বিস্তৃত সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বাধীন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করার এই ঘোষণা বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে।