news@weeklyinqilab.com|| 86-11 101 AVENUE, OZONE PARK, NY, 11416, USA
ব্রেকিং:

প্রবাস

রেমিট্যান্সে শীর্ষে আমিরাত, ৪১ প্রবাসী সিআইপি

Next.js logo

প্রকাশিত:

২১ জানুয়ারী, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন:

আখী খলিল : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসীরা।

Thumbnail for রেমিট্যান্সে শীর্ষে আমিরাত, ৪১ প্রবাসী সিআইপি
ইনকিলাব

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সৃষ্টি করে বিশেষ অবদানের জন্য মোট ৮৬ জন প্রবাসীকে 'কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন' (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত করেছে সরকার। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে আমিরাত থেকেই ৪১ জন এই গৌরবময় মর্যাদা লাভ করেছেন।

 

চলতি বছরে বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন দিরহাম, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। রেমিটেন্স প্রবাহকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে কমার্শিয়ালি ইম্পরট্যান্ট পারসন (সিআইপি) মর্যাদা।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৮৬ জন সিআইপির প্রায় অর্ধেকই (৪৭ শতাংশ) আমিরাত প্রবাসী। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওমান (৭ জন) এবং তৃতীয় স্থানে কাতার (৫ জন)। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইতালির মতো উন্নত দেশগুলোকে পেছনে ফেলে আমিরাত প্রবাসীদের এই অর্জন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তাদের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

 

এই ৪১ জন সিআইপিকে নিয়ে রেমিটেন্স প্রবাহের ভিত্তি আরও মজবুত করা এবং প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার লক্ষ্যে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজন করে এক মতবিনিময় সভা।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিআইপি মোহাম্মদ রুবেল ও সিআইপি মোহাম্মদ সিফাত উল্লাহ।শূন্য হাতে প্রবাসে এসে কঠোর পরিশ্রম ও শ্রমঘাম ঝরিয়ে কীভাবে মিলিয়ন দিরহামের মালিক হয়েছেন এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠিয়ে সিআইপি মর্যাদা অর্জন করেছেন-সে গল্পও শোনান তারা।

 

এই সাফল্য উদযাপনে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দুবাই কনসুলেটে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত ৪১ জন সিআইপিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমিরাত প্রবাসীরা শুধু শ্রম দিয়ে নয়, বরং মেধা ও সততার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ।”

 

সিআইপি মর্যাদা পাওয়া ৪১ জন প্রবাসীর অধিকাংশেরই দাবি, সরকারের নেওয়া ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা এবং হুন্ডি বিরোধী প্রচারণার ফলে আমিরাত থেকে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিআইপি মর্যাদা পাওয়া একজন সফল উদ্যোক্তা বলেন, “এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। আমরা চাই দেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে।”

 

এছাড়াও তিনি প্রবাসীরা ভিসা সংকট, প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উচ্চ খরচ, পোস্টাল ব্যালটের জটিলতা, বিমানবন্দরে হয়রানি এবং দেশে বিভিন্ন সেক্টরে প্রবাসীদের লাঞ্ছনা ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

 

তিনি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে সিআইপিদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সকল প্রবাসীকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রদূত।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত থেকে এত বিপুল সংখ্যক সিআইপি নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বাজারটি বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রবাসীদের এই প্রবাহ ধরে রাখতে এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ এবং এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সিআইপিরা।

 

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সিআইপিদের হাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘জিরো থ্রি থিওরি’সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান, আবুধাবি দূতাবাসের ডেপুটি ইনচার্জ শাহনাজ পারভীন রানুসহ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 

বিজ্ঞাপন কর্নার

আমাদের সম্পর্কে

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিঃ শাহ নেওয়াজ

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ পাভেল মাহমুদ

ইংরেজি পাতার সম্পাদকঃ ফুহাদ হোসেন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ বদরুদ্দোজা সাগর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ জাহিদ আলম

স্টেশন ইনচার্জঃ মো: মিদুল ইসলাম মৃদুল

টেকনিক্যাল ইনচার্জঃ মো: রাশেদুজ্জামান রাজু

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

রেমিট্যান্সে শীর্ষে আমিরাত, ৪১ প্রবাসী সিআইপি