news@weeklyinqilab.com|| 86-11 101 AVENUE, OZONE PARK, NY, 11416, USA
ব্রেকিং:

আন্তর্জাতিক

ইরানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও খামেনি সরকারের অবস্থান

Next.js logo

প্রকাশিত:

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন:

আখী খলিল : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির সরকার। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই আন্দোলনকে 'শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র' হিসেবে অভিহিত করলেও শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির বিষয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

Thumbnail for ইরানে  শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও খামেনি সরকারের অবস্থান
ইনকিলাব

 এ প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকার।

 

মঙ্গলবার সরকারপক্ষের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে কিছু সীমারেখা মেনে চলতে হবে। তার ভাষায়, পবিত্র বিষয় ও জাতীয় পতাকা রাষ্ট্রের ‘রেড লাইন’। ক্ষোভ যত তীব্রই হোক, এ সীমা অতিক্রম করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিয়মকানুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাম্প্রতিক কিছু সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। ছাত্রীদের অংশগ্রহণ এবং সংহতি এই আন্দোলনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (IRNA) মারফত প্রকাশিত বিবৃতিতে খামেনি সরকার তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সরকারের প্রতিক্রিয়ার মূল দিকগুলো হলো:

 

সরকার দাবি করেছে, পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে।সরকারি বিবৃতিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, যারা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে বা সরকারি সম্পদে আঘাত হানবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার আভাস দিয়ে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।

 

টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রবর্তিত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকায় আগুন দিতে দেখা যায়। এ ঘটনার পরই সরকারের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা আসে।

 

মোহাজেরানি বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ ও বেদনা রয়েছে। তারা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, যা তাদের আহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই অনুভূতিকে তিনি ‘বোধগম্য’ বলে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন।

 

খামেনি এই বিক্ষোভকে সরাসরি 'বিদেশি ইন্ধন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

 

"আমাদের তরুণরা আবেগপ্রবণ, কিন্তু তারা আমাদের শত্রু নয়। তবে যারা পেছন থেকে সুতো নাড়ছে, তাদের উদ্দেশ্য পবিত্র নয়। আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হবো না।"

 

বিক্ষোভের কারণে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের প্রতি শান্তিতে বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘও শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার জন্য তেহরানকে অনুরোধ করেছে।

 

বিজ্ঞাপন কর্নার

আমাদের সম্পর্কে

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিঃ শাহ নেওয়াজ

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ পাভেল মাহমুদ

ইংরেজি পাতার সম্পাদকঃ ফুহাদ হোসেন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ বদরুদ্দোজা সাগর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ জাহিদ আলম

স্টেশন ইনচার্জঃ মো: মিদুল ইসলাম মৃদুল

টেকনিক্যাল ইনচার্জঃ মো: রাশেদুজ্জামান রাজু

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ইরানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও খামেনি সরকারের অবস্থান