প্রকাশিত:
৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দুবাইভিত্তিক জনপ্রিয় লটারি প্রতিষ্ঠান 'মাহজুজ' (Mahzooz) বা 'বিগ টিকিট' (Big Ticket)-এর ড্র-তে গত রাতে এই বিশাল অংকের জয়ী হিসেবে ওই বাংলাদেশির নাম ঘোষণা করা হয়। লটারি কর্তৃপক্ষ জানায়, তার কেনা টিকেটের নম্বরগুলো লটারির ড্র-তে হুবহু মিলে গেলে তিনি দ্বিতীয় শীর্ষ পুরস্কারটি জিতে নেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ লাখ দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।মাত্র কয়েক হাজার টাকার বেতনের চাকরি করা এক সাধারণ শ্রমিকের রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা বইছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে টানা ২১ বছর ধরে বসবাস করছেন আলওয়ার উদ্দিন।তার সহকর্মীরা জানান, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দুবাইতে একটি আবাসন কোম্পানিতে ফোরম্যান হিসেবে কাজ করছেন। লটারি জয়ের খবর পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিজয়ীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, "সে সবসময় বলত, একদিন আমাদের ভাগ্য ফিরবে। আজ তার সেই বিশ্বাস সত্যি হলো। এই টাকা দিয়ে সে দেশে গিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করতে চায় এবং তার সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চায়।"
এদিকে বিগ টিকিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ক্রেতাদের জন্য থাকছে বিশেষ ‘ধামাকা অফার’। আগামী ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য মেগা ড্র-তে গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে থাকছে ১৫ মিলিয়ন দিরহাম। পাশাপাশি পাঁচজন বিজয়ী পাবেন এক লাখ দিরহাম করে পুরস্কার।
এছাড়াও পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে প্রতি সপ্তাহে ই-ড্র-এর মাধ্যমে চারজন করে বিজয়ীকে ৫০ হাজার দিরহাম করে প্রদান করা হবে।পাশাপাশি ‘ড্রিম কার’ সিরিজের আওতায় এই মাসেই রেঞ্জ রোভার ও মাসেরাতির মতো বিলাসবহুল গাড়ি জয়ের সুযোগও থাকছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ওমানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বড় অংকের লটারি জেতার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এই সাফল্য দেখে অন্য প্রবাসীরাও দারুণ উৎসাহিত। তবে লটারি কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাস থেকে সবসময় সতর্ক করা হয় যেন প্রবাসীরা তাদের উপার্জনের সবটুকু লটারিতে ব্যয় না করে হিসাব করে বিনিয়োগ করেন।
সাড়ে ৩ কোটি টাকার এই মালিক এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়। তার এই জয় প্রমাণ করল যে, ধৈর্য আর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্য সহায় হলে সাধারণ মানুষের জীবনেও অলৌকিক পরিবর্তন আসতে পারে।