প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি ইয়ট পার্টিতে অংশ নিয়ে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় মারা যান ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গ। তার মৃত্যুত্যে ভারতে, বিশেষ করে আসামে নামে শোকের ছায়া। জুবিনের পরিবার থেকে দাবি ছিল, তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারও হন বেশ কয়েকজন। তবে এবার ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য জানিয়েছে সিঙ্গাপুর পুলিশ।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীত জগতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র জুবিন গার্গের মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা সব জল্পনার অবসান ঘটল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) সিঙ্গাপুরের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ জুবিনের মৃত্যুর কারণ সম্বলিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই (Cardiac Arrest) মৃত্যু হয়েছে এই শিল্পীর।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে শুনানিকালে জানানো হয়, ঘটনার সময় ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পী ছিলেন বেহেড মাতাল, লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকারও করেছিলেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়ার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
তদন্তকারী দলের প্রধান কর্মকর্তা আদালতে জানান, জুবিন প্রচণ্ডভাবে মাতাল ছিলেন, শুরুতে জুবিন গার্গ লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন। এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে আবার একটি ছোট লাইফ জ্যাকেট পরার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি সেটিও পরতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ইয়টের দিকে সাঁতার কাটতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ইয়টে তোলা হয়। তবে ততক্ষণে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।
আদালতে আরও জানানো হয়, জুবিন গার্গ উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগী রোগে (এপিলেপসি) ভুগছিলেন। তার মৃগীজনিত সর্বশেষ সমস্যা দেখা দেয় ২০২৪ সালে। তবে ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জুবিন গার্গের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ডালপালা মেলেছিল।
সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জুবিন গার্গের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে যাওয়াকেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
জুবিনের মৃত্যুতে কেবল আসাম নয়, পুরো বলিউডেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলি’ গানের মাধ্যমে তিনি সারা ভারতে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তা আজও অতুলনীয়।