প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর, ২০২৫

বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম। বিশ্বজুড়ে সোনার দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতার মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আরও উল্লেখযোগ্য পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চ, যাদের মতে আগামী বছর এই দাম প্রতি আউন্সে পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছে যাবে।
সোনার ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্তের সোনার গয়না পরার শখ যেন দিনে দিনে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগেই প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় সোনা আনার নিয়ম-কানুনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশ থেকে দেশে ফেরার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণে সোনার গয়না আনলে কোনো শুল্ক-কর দিতে হয় না। এছাড়া, নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক প্রদান করে স্বর্ণপিণ্ড বা সোনার বার আনার সুযোগও রয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছর থেকে 'অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫' জারি করেছে। এই নতুন বিধিমালা অনুযায়ী:
শুল্কমুক্ত সোনার গয়না: বিদেশফেরত একজন যাত্রী বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম সোনার অলংকার (যা প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা) শুল্ক ছাড়াই আনতে পারবেন।
রুপার অলংকার: রুপার অলংকার আনা যাবে সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম।
পরিমাণে বিধিনিষেধ: সোনা বা রুপা—যা-ই হোক না কেন, একই ধরনের গয়না ১২ পিসের বেশি আনা যাবে না।
সোনার বার: তোলাপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে একজন যাত্রী বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০ তোলা ওজনের একটি সোনার বার আনতে পারবেন।
যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিমানবন্দরে নামার পর 'ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম' পূরণ করা। এই ফর্মে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইট নম্বর, জাতীয়তা, আগমনের দেশ এবং শুল্ক দিতে হবে এমন কোনো পণ্য আনা হয়েছে কিনা, তার বিবরণ দিতে হয়। তবে, যদি কেউ ১০০ গ্রাম সোনার অলংকার এবং ২০০ গ্রাম রুপার অলংকারের কম নিয়ে আসেন, তবে তাকে এই ফরম পূরণ করতে হবে না এবং শুল্ক বসবে না এমন পণ্য নিয়ে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন।