প্রকাশিত:
২৪ নভেম্বর, ২০২৫

সোমবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক শেষে স্থান পুনর্বিন্যাসের কথা জানান স্কপ নেতারা। অপরদিকে, এদিন বিকেলে সংগঠন ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী।
বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদন্য প্রকৌশল কমডোর কাওছার রশিদের সাথে বৈঠকে অংশ নেন স্কপ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এসকে খোদা তোতন প্রমুখ।
স্কপের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে জানান যে, বন্দরের চেয়ারম্যান বর্তমানে ছুটিতে থাকায় নভেম্বরে কোনো ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলে বর্তমান সরকারের পক্ষে এমন চুক্তি করার সুযোগও আর থাকবে না। তাই তড়িঘড়ি করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই।
স্কপ নেতারা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা দেওয়ার দিন বিডার প্রধান নির্বাহী আশিক চৌধুরী সাত দিনের মধ্যে এনসিটির চুক্তি হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের কৌশলগত চুক্তি করার নৈতিক কিংবা আইনি অধিকার নেই।
তারা আরও জানান, স্কপ গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে এবং এতে এখন দেশের শ্রমিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়েছে। ফলে স্কপ এখন একতরফাভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। স্কপ নেতারা সর্বস্তরের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে সিসিটি, এনসিটিতে শ্রমিকদের স্বার্থহানি হয় এমন কিছু হবে না। এ আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমাদের আজকের (সোমবার) কর্মসূচি দুই দিন স্থগিত করেছি।
এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বড়পোল, আগ্রাবাদ, সিম্যান্স হোস্টেল এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য ও বন্দর রক্ষা পরিষদের সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আজ দুপুর ১২টা থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আদালতে আগামীকাল শুনানির কথা বিবেচনা করে আজকের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বন্দরের এনসিটি, সিসিটিতে বন্দরের কর্মচারীদের স্বার্থহানি করে এমন কিছু করবেন না। তারপরও আমরা সজাগ থাকব, সচেতন থাকব। আজকের কর্মসূচি স্থগিত করছি। ২৬ নভেম্বর (বুধবার) বেলা ১১টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।