প্রকাশিত:
৪ জানুয়ারী, ২০২৬

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংগঠনটি। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪৫ জন। নৌপথে সংঘটিত ১২৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৮ জন, আহত হয়েছেন ১৩৯ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৩৮ জন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৬৯টি। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ৭৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬ জন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং আহতের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত এক বছরে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৮৮টি।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির মতে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়কের নির্মাণত্রুটি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল।
সংগঠনটি মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে না পারায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও অবনতির দিকে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সংখ্যার তুলনায় বাস্তব চিত্র অন্তত পাঁচ গুণ বেশি। গণমাধ্যমে সব দুর্ঘটনার তথ্য পুরোপুরি উঠে না আসায় প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। যাচাই-বাছাই করেই তাঁরা এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মো. মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নে তাদের ভূমিকা এখন পর্যন্ত খুবই সীমিত। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়কনিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে, সেই দাবি জানান তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রীকল্যাণ সমিতি ১২টি সুপারিশও উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন খাত সংস্কার, সড়কনিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকার নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা; সড়কনিরাপত্তা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি; রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার পরিবর্তে দেশের সব নগরীতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রিক এসি বাসের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা; এবং বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলে সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টার অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।
মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও সড়কের বাস্তব চিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ও মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে যানজট ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদ এবং অটোমোবাইল প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম।