প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় গতকাল বুধবার অধিকাংশ বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাকে তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, অথবা আকাশপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) তেহরান থেকে পাওয়া এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেখানে জানানো হয়, বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য ইরানের আকাশসীমা বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) থেকে বন্ধ থাকবে। প্রাথমিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে এর ৩০ মিনিট পরও এফএএর ওয়েবসাইটে এ নোটিশ ছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য আকাশপথের হামলা এড়াতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান। এ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে কোনো সরাসরি হামলার পরিকল্পনার কথা তারা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয়—উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় তাদের ফ্লাইটগুলো বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে। রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের একটি উড়োজাহাজ তেহরানের পথে রওনা দিলেও মাঝপথ থেকে মস্কোতে ফিরে গেছে।
জার্মানির উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা লুফথানসা ও ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা আপাতত ইরান ও ইরাকের আকাশপথ এড়িয়ে চলবে। এ ছাড়া নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তেল আবিব ও আম্মানে রাতের পরিবর্তে দিনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
২০২০ সালে ভুলবশত ইউক্রেনীয় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল ইরানের সামরিক বাহিনী। এতে ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ উড়োজাহাজ সংস্থা এখন ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে।