প্রকাশিত:
গতকাল

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই আবেদনটি দাখিল করেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, আইজিপি ও র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে সারা দেশের কয়েকশ থানা থেকে পুলিশের বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান ও গুলি লুট করা হয়েছে। যদিও গত কয়েক মাসে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু একটি বড় অংশ এখনো দুর্বৃত্ত ও সাধারণ মানুষের হাতে রয়ে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা চরম সংঘাত ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
রিটে আরো বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এ নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বক্তব্য প্রদান করেছেন যে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনকারী আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, "একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ পরিবেশ। যদি কয়েক হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনো অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের হাতে থাকে, তবে ভোটের দিন পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকানো অসম্ভব হবে। মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।"
উল্লেখ্য, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার হলেও বাকি ৩০ শতাংশ এখনো নিখোঁজ। এর মধ্যে সাব-মেশিনগান এবং পিস্তলের মতো ছোট ও ভয়ংকর অস্ত্র বেশি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই অস্ত্রগুলো আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
এই অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে।
হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে এই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে। আদালত এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের কাছে কোনো ব্যাখ্যা তলব করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।