প্রকাশিত:
২৭ নভেম্বর, ২০২৫

আটক হওয়া ট্রলার দুটি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস ও নুর মোহাম্মদের মালিকানাধীন।
ট্রলার মালিক নুর মোহাম্মদ জানান, বুধবার কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয় জেলেকে নিয়ে তার ট্রলারটি ছেঁড়াদিয়ার এলাকায় মাছ ধরতে যায়। সেখানে বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে বৃহস্পতিবার ভোরে আরাকান আর্মির সদস্যরা ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্রলার মালিক ও জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানায়, গেল ২৮ অক্টোবর থেকে আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করে। টহলের সময় আরাকান রাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করে মাছ ধরতে থাকা কয়েকটি বাংলাদেশি ট্রলার শনাক্ত করা হয়। তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরবর্তীতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুইটি ট্রলারসহ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ১২ জেলে আটকের বিষয়টিও প্রকাশ করা হয়।
সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে যাওয়া আমার ঘাটের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেড় শতাধিক জেলেকে আরাকান আর্মি আটক করেছিল, যাদের অনেকে এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছেন। ফলে জেলেদের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক বাড়ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, গেল দশ মাসে নাফ নদ ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে বিজিবির সহায়তায় ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনও ১৫০ জেলে তাদের হেফাজতে রয়েছে। এ কারণে অনেক জেলে এখন সাগরে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছে।