প্রকাশিত:
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

নাজনীন মুন্নী এখন গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ছিলেন। হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে আজ ফেসবুকে একটি পোস্টে নাজনীন মুন্নী লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে ৭-৮ জন আমার অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে—চাকরি না ছাড়লে অফিসে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন ধরিয়ে দেবে।’
হুমকি প্রসঙ্গে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রশিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘মহানগর কমিটির পৃথু নামের এক সদস্য কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা ছাড়া কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে গ্লোবাল টিভিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি স্মারকলিপি দেন, যেটিতে সাংবাদিক নাজনীন মুন্নীকে ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে অপসারণের দাবি করা হয়। স্মারকলিপিটি আমরা সংগ্রহ করেছি। সেখানে আগুন লাগানোর কোনো কথা লেখা নেই।’ সংগঠনের ওই সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের ওপর কোনো আঘাতের পক্ষে নেই। নাজনীন মুন্নী বা গ্লোবাল টিভি আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আমরা তাঁকে বহিষ্কার করব।’
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজনীন মুন্নী বলেন, হুমকির ঘটনাটি ২১ ডিসেম্বর রোববারের হলেও তিনি পরদিন অফিসে এসে জানতে পারেন।
তরুণেরা এমডিকে বলেন, নাজনীন মুন্নীকে কেন রেখেছেন? উনি আওয়ামী লীগের লোক। ওনাকে চাকরিতে রাখা যাবে না। ওনাকে বাদ দিন।’নাজনীন মুন্নী জানান, তরুণদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমডি আহমেদ হোসেন বলেছিলেন, তাঁরা নাজনীন মুন্নীকে দেখেশুনেই চাকরিতে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নাজনীন মুন্নীকে বাদ না দিলে আপনাদের অফিসেও প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন লাগিয়ে দেব,’ এমডি আহমেদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বলেন নাজনীন মুন্নী।
তিনি বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী চাইছে ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে ভয়-ভীতি দেখাতে। আমরা যাঁরা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারি, তাঁদের গণমাধ্যমে রাখতে চায় না ওই গোষ্ঠী।’
তবে এই হুমকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ হোসেন ‘কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই’ বলে জানান।