প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ (নির্ভুলভাবে ২৪.৯ শতাংশ) বেশি। একে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।
বরাবরের মতো জুলাই মাসেও রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক (RMG) খাত। তবে অন্যান্য অ-পোশাক খাতেও উল্লেখ্যযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে:
তৈরি পোশাক খাত : মোট ৪৭৭ কোটি ডলারের মধ্যে ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারই এসেছে পোশাক খাত থেকে। নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় বিভাগেই প্রবৃদ্ধি ছিল দুই অঙ্কের ঘরে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৯.৬৫ শতাংশ, যা রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য।
কৃষিপণ্য : সবজি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ১২.৮৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
প্লাস্টিক ও পাটজাত পণ্য : প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও পাটজাত পণ্যের আয়ে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বর্তমানে ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, জুলাই মাসের এই রপ্তানি আয় তা কিছুটা প্রশমিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রপ্তানি আয় বাড়লে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়বে, যা আমদানির দায় মেটাতে এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সাহায্য করবে।
বিজিএমইএ (BGMEA) নেতৃবৃন্দ এই প্রবৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না রাখলে এই প্রবৃদ্ধির ধারা বছরের বাকি মাসগুলোতে বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ রুখতে শিল্প এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও তারা জোর দিয়েছেন।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রপ্তানিতে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।