প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

ভালো মানের মিনিকেট চাল কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (ব্র্যান্ডভেদে)। নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ধরনভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা স্পর্শ করেছে। বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতীয় চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়ে ৫৬ থেকে ৬২ টাকায় ঠেকেছে। মোটা চাল (স্বর্ণা ও গুটি) বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে।
চালের পাশাপাশি বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে চা-এর দামও বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া এবং মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরণের চালের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দাম। অবশ্য বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল আছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব চালের সরবরাহ বাড়বে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে বড় বড় অটো রাইস মিল মালিকরা ধান মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি গুদামে বর্তমানে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সম্প্রতি জানিয়েছেন, সরকারের কাছে বর্তমানে ২০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে ওএমএস (OMS) কার্যক্রম জোরদার এবং আমদানির পথ সহজ করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।
ভোক্তারা এখন শীতের সবজি কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন। কারণ, শীত মৌসুমের সবজির সরবরাহ বেশি, দামও কম। বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টমেটোর কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা।
চালের পাশাপাশি ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও চড়া থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, "সবজির দাম কিছুটা কমলেও চালের দাম বাড়ায় সেই সুবিধা আর পাওয়া যাচ্ছে না।"
বিশ্লেষকদের মতে, মিল পর্যায়ে মজুতদারদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নতুন চাল পুরোপুরি বাজারে এলেও ভোক্তারা দাম কমার সুফল পাবেন না।