প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে প্রথমবারের মতো এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমোদনের পর গত ২১ ও ২৪ জানুয়ারি এসব চিঠি পাঠানো হয়।
বিপিসি যেসব দেশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে, তার মধ্যে রয়েছে:
মধ্যপ্রাচ্য: সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আলজেরিয়া।
এশিয়া ও অন্যান্য: ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও আজারবাইজান।
বিপিসির চিঠিতে সরবরাহের সক্ষমতা ও শর্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন-কে পাঠানো চিঠিতে দেশের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক দামের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিপিসি মূলত দুটি উপায়ে পণ্য খালাসের কথা ভাবছে:
ক্ষুদ্র পরিসর: ৫ থেকে ১০ হাজার টন এলপিজি সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করা। এতে আনুমানিক ১০ দিন সময় লাগবে।
বৃহৎ পরিসর: প্রতি মাসে ৪০ হাজার টনের বড় চালানে আমদানি। এক্ষেত্রে গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হবে, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ দিন সময় লাগতে পারে।
"আমরা দেখতে চাই কোন দেশ কী শর্তে কত দ্রুত গ্যাস দিতে পারবে। জাহাজের ব্যবস্থা ও দাম বিবেচনায় নিয়ে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্পটিই আমরা বেছে নেব।"
— এ কে এম আজাদুর রহমান, পরিচালক, বিপিসি।
জ্বালানি বিভাগ থেকে ১৮ জানুয়ারি আমদানির অনুমতি পেলেও বিপিসিকে তিনটি কঠোর শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
বিপিসি নিজে গ্যাস বোতলজাতকরণ বা সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রি করতে পারবে না।
আমদানিকৃত বাল্ক এলপিজি কেবল অনুমোদিত বেসরকারি অপারেটরদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সাথে আলোচনা করে আমদানিকৃত গ্যাস গ্রহণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করতে হবে।
দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এই বাজারের ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। দেশে নিবন্ধিত ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৮টি কোম্পানি নিয়মিত এলপিজি আমদানি করে। বৈশ্বিক জাহাজ সংকট ও ডলার সমস্যার কারণে সম্প্রতি অনেক কোম্পানি আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
লোয়াব সভাপতি আমিরুল হক জানান, তারা বিপিসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন এবং প্রায় সব বেসরকারি কোম্পানিই বিপিসির কাছ থেকে গ্যাস নিতে আগ্রহী।
বিপিসির এই হস্তক্ষেপ সফল হলে খুচরা বাজারে এলপিজির সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।