প্রকাশিত:
গতকাল

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইয়াজদের পুলিশপ্রধান আহমাদ নেগাহবান বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক দাঙ্গাকারীদের সাথে সম্পর্কিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অস্থিরতার সময় গ্রেপ্তার হওয়া ১৩৯ জনই বিদেশি নাগরিক।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত (বিদেশি) ব্যক্তিরা দাঙ্গামূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করা, উসকানি দেওয়া, নির্দেশনা ও পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা বিদেশে থাকা নেটওয়ার্কের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন।’
এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অস্থিরতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেন, মার্কিন উসকানিতে যারা ভূমিকা রেখেছে এবং এটিকে সমর্থন করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেখান থেকে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভ তীব্র হলে ৮ জানুয়ারি ইন্টারনেট বন্ধ করে মাঠে নামানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
তেহরান স্বীকার করেছে, এ অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মারা গেছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮০০ জনেরও মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।