প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে শুরু হয়েছে নতুন হাহাকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে বাজারে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, অথচ যার নির্ধারিত সরকারি মূল্য ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, টাকা দিয়েও অনেক জায়গায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত এই গ্যাস সিলিন্ডার।
এই অস্বাভাবিক বাড়তি দামে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান।তিনি বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে।তবে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর আগে বাজারে দাম বাড়ানো ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। খুচরা বিক্রেতারা এটা ঠিক করছেন না।’
খুচরা বিক্রেতারা এই সংকটের জন্য বড় পরিবেশক ও কোম্পানিগুলোকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া ডলার সংকট ও এলসি (LC) জটিলতার কারণে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে বলে দাবি করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
৪ জানুয়ারি বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে। বিইআরসি ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট।
ভোক্তাদের বড় প্রশ্ন—নিয়মিত বিরতিতে বিইআরসি দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে তার প্রয়োগ নেই কেন? জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ এখন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সরবরাহ না থাকলেও বেশি দামে তো ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বেশি দামে বিক্রি আইনত অপরাধ। বিইআরসি সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না।
শামসুল আলম আরও বলেন‘এ সংস্থাটির প্রতি ভোক্তার অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের কোনো দপ্তর বাড়তি দামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোনো সভ্য সমাজে এটা হতে পারে না,’
রান্নাঘরের অপরিহার্য এই পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের উচ্চ মহলের নজরদারি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এই 'গ্যাস নৈরাজ্য' বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।