প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, এই সুবিধা বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধসে পড়বে।
বস্ত্রকল মালিকদের (BTMA) দাবি, ভারতে প্রতি কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ হয় ২.৮৫ - ২.৯০ ডলার, অথচ তারা বাংলাদেশে রপ্তানি করছে মাত্র ২.৫ ডলারে। দেশীয় মিলে উৎপাদন খরচ ৩ ডলার। এই অসম প্রতিযোগিতায় ৫০টি কল বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে।
বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা ১৫-১৬% কমেছে। ক্রেতারা টি-শার্টের নায্য দাম দিচ্ছে না। এই অবস্থায় সস্তা সুতার বিকল্প বন্ধ হলে অনেক পোশাক কারখানাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নিট পোশাকের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত ১০-৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, আমদানিনির্ভরতা বাড়লে ভবিষ্যতে এলডিসি উত্তরণের পর 'জিএসপি প্লাস' সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে।
পরিসংখ্যান তথ্য থেকে জানা যায়, বিনিয়োগ (Primary Textile) ২,৩০০ কোটি ডলার (প্রায় ২.৮ লাখ কোটি টাকা), জিডিপিতে অবদান ১৩ শতাংশের বেশি। বর্তমান উৎপাদনসক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে, এলডিসি পরবর্তী সুবিধার জন্য অন্তত ৪০% মূল্য সংযোজন জরুরি।
২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে পণ্যে অন্তত ৪০% স্থানীয় মূল্য সংযোজন থাকতে হবে। আমদানিকৃত সুতার ওপর নির্ভরতা বাড়লে এই শর্ত পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ভারত তাদের টেক্সটাইল খাতকে নানাভাবে প্রণোদনা দিলেও বাংলাদেশে উল্টো তুলার ওপর শুল্ক বসানো হয়েছে এবং নগদ সহায়তা কমানো হয়েছে।
নিজস্ব সুতা না থাকলে আমদানিতে সময় বেশি লাগবে (Lead Time বাড়বে) এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (রিজার্ভ) দেশের বাইরে চলে যাবে।
বিশেষজ্ঞ মোস্তফা আবিদ খান সতর্ক করে বলেছেন, বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার করলে রপ্তানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই বাড়তি দাম বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। তাঁর মতে, সরাসরি সুবিধা বন্ধ না করে বস্ত্র খাতকে বিকল্প উপায়ে প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত এখতিয়ার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR)। এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করছেন। দেশের প্রধান দুই রপ্তানি সংশ্লিষ্ট খাতের স্বার্থ রক্ষা করে এনবিআর মধ্যপন্থা অবলম্বন করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।