প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী, ২০২৬

ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-র জন্য ১৭৮ কোটি টাকার সয়াবিন তেল কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান থাইল্যার্ডের প্রাইম ক্রপ ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড সয়াবিন তেল কিনবে সরকার।
সভায় শুধু সয়াবিন তেলই নয়, দেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে মসুর ডাল, সার এবং জ্বালানি তেল আমদানির পৃথক প্রস্তাবগুলোতেও সম্মতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
বিগত সময়ের তুলনায় এবারের ক্রয় প্রক্রিয়ায় লিটার প্রতি দরে কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বর্তমানে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের দাম এর চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারি এই উদ্যোগ বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এই তেল মূলত টিসিবি-র ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের জন্য কেনা হচ্ছে। দেশের প্রায় ১ কোটি নিম্ন আয়ের পরিবার মাসে একবার সাশ্রয়ী মূল্যে এই তেল কেনার সুযোগ পাবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, "সামনে পবিত্র রমজান মাস আসছে। সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা কমাতে আমরা আগাম মজুত গড়ে তুলছি।"
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যখন সরাসরি বড় অংকের পণ্য ক্রয় করে মজুত করে, তখন খোলা বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব কমে আসে। ১৩১ টাকা দরে এই তেল সংগ্রহের ফলে খুচরা বাজারেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা কিছুটা থিতু হতে পারে। তবে তেলের গুণগত মান এবং সঠিক সময়ে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দ্রুততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।