প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী, ২০২৬

এক সময় যা ছিল কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় রূপচর্চার গোপন রহস্য, আজ তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনের ত্বকের যত্নের অপরিহার্য অংশ। যে অমেরুদণ্ডী প্রাণী ‘শামুক’ দেখে অনেকে ঘিনঘিন করতেন, সেই শামুকের নির্যাস (Snail Mucin) ব্যবহার করেই এখন বিশ্ব বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছে দক্ষিণ কোরিয়া। গড়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলারের এক সুবিশাল সাম্রাজ্য, যাকে বিশ্ব চেনে ‘কে-বিউটি’ (K-Beauty) নামে।
শামুকের নির্যাস বা মিউসিন ত্বকের কোষ পুনর্গঠন, দাগ দূর করা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। কোরিয়ান গবেষকরা লক্ষ্য করেন, শামুকের এই প্রাকৃতিক আঠালো রস মানুষের ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে সহায়ক। শুরুতে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও, ‘কসআরএক্স’ (COSRX) বা ‘মিসা’র (Missha) মতো ব্র্যান্ডগুলো যখন এই উপাদানটি বাজারে আনে, তখন থেকেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বর্তমানে বিশ্ববাজারে শুধু একটি বিশেষ ব্র্যান্ডের শামুক সেরামই বছরে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কে-বিউটি মার্কেটের আকার ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে।
এ শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কে-বিউটিকে ‘কৌশলগত জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এ স্বীকৃতির ফলে রপ্তানি ও গবেষণায় বিশেষ কর সুবিধা ও প্রণোদনা পাবে খাতটি।
শামুকের নির্যাস সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রাণীপ্রেমীদের উদ্বেগ থাকলেও, আধুনিক কে-বিউটি ব্র্যান্ডগুলো দাবি করে তারা ‘ক্রুয়েলটি-ফ্রি’ (Cruelty-free) পদ্ধতি ব্যবহার করে। অর্থাৎ, শামুককে কোনো কষ্ট না দিয়ে বা মেরে না ফেলে শুধু তাদের চলার পথের নির্যাস সংগ্রহ করা হয়।
শামুকের নির্যাস থেকে শুরু হওয়া এই বিপ্লব প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা আর সঠিক বিপণন থাকলে একটি সাধারণ উপাদান দিয়েও বিশ্ববাজার জয় করা সম্ভব। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ‘সফট পাওয়ার’ এখন শুধু বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের ড্রেসিং টেবিল থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে।