প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

রপ্তানি খাতের জন্য দেওয়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এই কেলেঙ্কারি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ১০০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে তাদের ব্যাংক লেনদেন এবং আমদানি-রপ্তানির নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বন্ড লাইসেন্সের আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে তা রপ্তানির বদলে খোলাবাজারে বিক্রি করছে, এমন সন্দেহভাজন বড় রপ্তানিকারকদের গত পাঁচ বছরের ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।
এনবিআর-এর বন্ড কমিশনারেট জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ১০০টি প্রতিষ্ঠানের গত কয়েক বছরের ব্যাংক লেনদেন বিবরণী (Bank Statement) তলব করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সাথে তাদের ঘোষিত রপ্তানি আয়ের মিল আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শর্ত ভঙ্গ করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে:
১. বন্ড লাইসেন্স বাতিল
২. অর্থদণ্ড ও মামলা
৩. বিআইএন লক
এখন থেকে কাঁচামালের এনটাইটলমেন্ট বা ইউটিলিটি পারমিশনসহ সব বন্ড সেবা কেবল কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিবিএমএস) মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কর্মকর্তারা জানান, সিবিএমএস বাংলাদেশ ব্যাংক ও কাস্টমসের ডাটাবেইসের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নজরদারি, অডিট এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ অনেক শক্তিশালী হবে।
সাধারণ রপ্তানিকারকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য পুরো রপ্তানি খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তবে তারা দাবি করেছেন, তদন্তের নামে যেন কোনো প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার না হন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় ৬ হাজার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স রয়েছে, যারা শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, বন্ড অটোমেশন এখন পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমরা এখন নিয়মিতভাবে বন্ডেড ওয়্যারহাউজে ইনভেন্টরি চেক করব।
এনবিআর-এর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যদি সফলভাবে কার্যকর হয়, তবে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ১০০ প্রতিষ্ঠানের এই তদন্ত কেবল শুরু; এনবিআর ইঙ্গিত দিয়েছে যে পর্যায়ক্রমে এই নজরদারি আরও বিস্তৃত করা হবে।