প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশীয় স্পিনিং মিল বা সুতাকলগুলোর সুরক্ষায় ভারত থেকে সুতা আমদানিতে ২০ শতাংশ সুরক্ষা শুল্ক (Safeguard Duty) আরোপের প্রস্তাব নিয়ে দেশের প্রধান দুই রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ (BTMA) এই শুল্ক আরোপের জোরালো দাবি জানালেও, এর তীব্র বিরোধিতা করছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) এবং বিকেএমইএ (BKMEA)।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দাবি, ভারত সরকার তাদের স্পিনিং মিলগুলোকে বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে তারা বাংলাদেশে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে (ডাম্পিং প্রাইস) সুতা রপ্তানি করছে।
এতে বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর বিক্রি কমছে। বন্ধ হচ্ছে মিল। অন্যদিকে পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা বলছেন, ভারতীয় সুতায় বিধিনিষেধ দিলে পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে।
ভারত থেকে আমদানি হওয়া সুতা ব্যবহার করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। ৩০ কার্ডের এক কেজি সুতা বাংলাদেশি মিলগুলো বিক্রি করে প্রায় ৩ মার্কিন ডলারে, যা ভারতীয় উৎপাদকেরা বিক্রি করে ২ ডলার ৬০ সেন্টে। মূলত কম দামের কারণেই বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ভারতের সুতা আমদানি করেন।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ গত মাসে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ভারত থেকে কম দামে প্রচুর পরিমাণে সুতা আমদানি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো সংকটে পড়েছে। প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। সেদিন স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোকে বাঁচাতে সেফগার্ড শুল্ক আরোপ, ১০ শতাংশ নগদ সহায়তাসহ আরও কিছু সহায়তা চান।
বিটিএমএ ও বিকেএমইএর দুজন নেতা জানান, গত মাসে বিটিএমএর একজন সাবেক সভাপতির বাসায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতারা ভারতীয় সুতা আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপে সরকারের কাছে দাবি উত্থাপনে সমঝোতায় পৌঁছান। তখন সমঝোতা হয় ১০-২৮ কাউন্টের সুতায় সেফগার্ড শুল্ক চাওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিটিএমএ ১০-৩০ কাউন্টের সুতায় সেফগার্ড শুল্ক দাবি করে। পোশাকশিল্পে ২৯-৩০ কাউন্টের সুতাই বেশি লাগে। তারপরই বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা বিপরীতমুখী অবস্থান নেন।
এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (BTTC) গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা করেছে। সভায় বিটিএমএ নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারা কারখানাগুলোর চাবি বিটিটিসি দপ্তরে জমা দেবেন। অন্যদিকে, বিজিএমইএ নেতারা ভারসাম্যপূর্ণ শুল্ক নীতির দাবি জানিয়েছেন যাতে কোনো এক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভারত থেকে স্থলপথে সুতা আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও বর্তমানে তা সমুদ্রপথে আসছে। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা বলছেন, টেক্সটাইল ও আরএমজি (RMG) খাত একে অপরের পরিপূরক। যদি সুতাকলগুলো বন্ধ হয়ে যায় তবে পোশাক খাত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে, আবার সুতার দাম বাড়লে পোশাকের বাজার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।