প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। শীতের ভরা মৌসুমে যেখানে সবজির দাম কম থাকার কথা, সেখানে উল্টো চড়া মেজাজে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি পণ্য। সবজির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুরগির দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে দফায় দফায় দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর ও কচুক্ষেত বাজার ঘুরে এমন অস্থির চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, কুয়াশার কারণে বাজারে সরবরাহ ঠিকমতো আসছে না। তাই কিছুটা দাম বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে বেশিরভাগ শীতকালীন সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পিঁয়াজ ও আলুর বাজারে নেই তেমন পরিবর্তন। প্রতিকেজি পুরান দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়, নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজের দাম ৬০ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজের দামও প্রতি কেজি ৬০ টাকার আশেপাশে। আর নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায় প্রতি কেজি।
ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগির দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকায়, বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকায়। এছাড়া লাল লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।
ক্রেতারা দামের এই ঊর্ধ্বমুখিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
রাজধানীর বাজারে সবজি ও মুরগির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।