প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

সরবরাহ ব্যাহতের আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তেলের বাজার গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় চার ডলার বেড়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যখন যুক্তরাষ্ট্র তুলের নিয়ে গেল, তখন তেলের দাম উল্টো কমেছিল। কিন্তু এবার ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গরম-গরম কিছু কথা বলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত দুই মাসের মধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ লেনদেনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক—ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI)—উভয়ের দামেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওপেকের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীদের দমনে প্রাণঘাতী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার ছিল বিক্ষোভের ১৬তম দিন। সেদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ১৫ সেন্ট। সেই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ছিল ৫৯ ডলার ৭৮ সেন্ট। এই তেলের দাম গত ৮ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে। অন্যান্য তেলের দামও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের ওপর অবিলম্বে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার ফলে চীন ও রাশিয়ার মতো বড় ক্রেতারা ইরান থেকে তেল আমদানিতে বাধার সম্মুখীন হতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে সংকুচিত করবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বার্কলেস এক নোটে বলেছে, ইরানে অস্থিরতার কারণে তেলের দামে ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হয়েছে বলে তাদের ধারণা। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যে ৬০ ডলার থেকে ৬৪ ডলারে উঠল, তা মূলত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে।
একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়েও বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শর্ত সাপেক্ষে কারাকাসের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করতে পারে।
তেলের এই দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিমান ভাড়া, পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও প্রকট হবে। সবার নজর এখন ওপেকের (OPEC) পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে।