প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নতুন সরকার গঠনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আলোচনায় উঠে এসেছে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি।
১৯৭৩ সালের ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১৬) অনুযায়ী তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়।
মাসিক বেতন: একজন মন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রীর ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের বেতন ৫৫ হাজার টাকা।
চিকিৎসা: মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাঁদের যাবতীয় চিকিৎসা খরচ রাষ্ট্র বহন করে।
গাড়ি সুবিধা: মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি পান। সংসদ সদস্যরা পান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা।
জ্বালানি ও পরিবহন: মন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ এবং মাসে ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
বিদেশ ভ্রমণ: সরকারি সফরে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা পান তাঁরা।
মন্ত্রীরা সরকারি বাসভবন অথবা মাসে ৮০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পান। প্রতিমন্ত্রীর জন্য এই ভাড়া ৭০ হাজার টাকা। সরকারি বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিল সম্পূর্ণ সরকারি। এছাড়া বাড়ি সাজসজ্জার জন্য মন্ত্রীরা বছরে ৫ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা পান।
মাসিক ভাতা: টেলিফোন (৭,৮০০ টাকা), লন্ড্রি (১,৫০০ টাকা) এবং ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজের জন্য ৬,০০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
আপ্যায়ন ও অফিস: মন্ত্রীরা মাসে ১০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্যরা ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা পান। এছাড়া সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা পান।
দাতব্য ও স্বেচ্ছাধীন তহবিল: এলাকার উন্নয়নে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ এবং সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা পান। পাশাপাশি রয়েছে বার্ষিক ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, "দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হওয়া বিভিন্ন চুক্তির দায় মেটানোর চাপে, নির্বাচিত সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ব্যয় যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।"
উন্নত বিশ্বের মন্ত্রীদের জীবনযাপনের উদাহরণ টেনে তিনি নতুন সরকারের প্রতি ব্যয় সংকোচনের আহ্বান জানান।