প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও তাড়াশ উপজেলার মাঠের পর মাঠ এখন সরিষার হলুদে ছেয়ে আছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৯০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এই বিশাল উৎপাদনকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে।
শুধু সরিষাই নয়, সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে মধু উৎপাদনেও নেতৃত্ব দিচ্ছে এই জেলা। এ বছর ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪ হাজার কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। একক উপজেলা হিসেবে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে উল্লাপাড়া।
কৃষিবিদদের মতে, সিরাজগঞ্জের এই সাফল্যের প্রধান কারণ তিনটি:
১. চলনবিলের পলিমাটি: বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলিমিশ্রিত উর্বর মাটি সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
২. অনুকূল আবহাওয়া: সরিষার ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজনীয় শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়া এখানে বিদ্যমান।
৩. উপকরণ সহায়তা: সরকারের ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ।
শীর্ষ ৫ সরিষা উৎপাদনকারী জেলা (২০২৪-২৫ অর্থবছর)
জেলা উৎপাদনের পরিমাণ (টন)
সিরাজগঞ্জ ১,২৮,০০০
টাঙ্গাইল ১,১৮,০০০
রাজশাহী ৯৭,০০০
মানিকগঞ্জ ৯২,০০০
নওগাঁ ৮৮,০০০
গত তিন বছরে দেশে সরিষার উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ২৪ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ১৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যায়। এই বিপ্লবের নেপথ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত নতুন জাত 'বারি সরিষা-২০'।
বারির গবেষণা বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাওছার উদ্দিন আহাম্মদ জানান, এই জাতটি মাত্র ৮৫ দিনে ঘরে তোলা যায় এবং ফলন সাধারণ জাতের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি। আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে জমি পতিত না রেখে এই জাত চাষ করায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
উৎপাদিত এই সরিষার প্রধান ক্রেতা দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী। এসিআই, প্রাণ, সিটি, স্কয়ার, ফ্রেশ ও ওরিয়ন গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরিষা সংগ্রহ করে বোতলজাত তেল বাজারজাত করছে। এতে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, "উন্নত জাত এবং পার্টনার (PARTNER) প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় আমরা সরিষার উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে।"