প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজে রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক যেখানে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হওয়ার কথা, সেখানে বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। চাহিদা ও সরবরাহের মাঝে প্রায় ১৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিশাল ঘাটতি এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
পরিসংখ্যান এক নজরে
দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৪,২০০
স্বাভাবিক সরবরাহ ২,৮০০ - ৩,০০০
বর্তমান সরবরাহ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ২,২৫০
দৈনিক ঘাটতি ১,৯৫০
শিল্পাঞ্চলের বর্তমান চিত্রগাজীপুর: কালিয়াকৈরের সাদমা ফ্যাশনওয়্যারে ১৫ পিএসআই গ্যাসের বিপরীতে চাপ পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়েরও কম। কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
সাভার ও আশুলিয়া: ডিইপিজেডের কারখানাগুলোতে চাহিদার ২০ শতাংশ গ্যাসও মিলছে না। বয়লার ও ড্রায়ার চালাতে বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ প্রায় ছয় গুণ বেড়ে গেছে।
নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ: ডাইং, ফিনিশিং ও নিটিং ইউনিটগুলো পুরোপুরি বন্ধ। অনেক কারখানায় উৎপাদন নেমে এসেছে ২০ শতাংশের নিচে।
অকোটেক্স গ্রুপের ডিজিএম হোসাইন খালেক এবং এমআর টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ রুমন জানান, সামনে রমজান ও ঈদ। এটি মূলত ব্যবসার ‘পিক টাইম’। কিন্তু এই সময়ে গ্যাস না থাকায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়েও সংশয় তৈরি হতে পারে।
শুধু শিল্প নয়, সংকটের আঁচ লেগেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। কুড়িলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই দিন ধরে সারাদিন গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। ফলে ইলেকট্রিক চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত খরচ করে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
তিতাস গ্যাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানিয়েছেন, মেরামত শেষে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে পাইপলাইনে পূর্ণ চাপ তৈরি হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।