প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করবে সিটি ব্যাংক। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি কিনছে ব্যাংকটি নিজস্ব ভবন করার জন্য। নতুন করে ব্যাংকটি গুলশানে ২০ কাঠা জমি কেনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। জমির দামসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে এই অর্থ খরচ হবে।
সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরও ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গুলশানের সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বর্তমান বাজার মূল্য যেখানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা, সেখানে সিটি ব্যাংক জমিটি অনেক বেশি দামে ক্রয়ের চুক্তি করেছে বলে জানা গেছে। এই অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের যৌক্তিকতা নিয়ে এখন খোদ ব্যাংকিং খাতের ভেতরেই কানাঘুষা চলছে।
সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি। তাতে বলা হয়, নতুন করে ব্যাংকটি গুলশানে ২০ কাঠা জমি কেনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। জমির দামসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে এই অর্থ খরচ হবে। আর আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব সুউচ্চ ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকগুলোর উচিত বড় সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন কোনো ভ্যালুয়েশন ফার্মের মাধ্যমে মূল্য যাচাই করা। কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি (BSEC)-এর তদন্ত করা উচিত।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই।
বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড চলছে গুলশানের একটি ভাড়া ভবনে। নিজস্ব জমিতে নতুন করে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেখান থেকে প্রধান কার্যালয় সাময়িকভাবে ভাড়া ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকটির কর্মীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০০ জনের বেশি। দেশজুড়ে ব্যাংকটির রয়েছে ১৩৪টি শাখা, ৭০টি উপশাখা।