প্রকাশিত:
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় পেশ করতে হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় রুটিন কাজ গুছিয়ে রাখলেও মূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে নতুন সরকারকে। বিএনপির ইশতেহারে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। একইসাথে কৃষক কার্ড বা পরিবার কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের হিসাব-নিকাশ প্রয়োজন।
নির্বাচনী ইশতেহার এবং স্থানীয় নেতাদের দেওয়া অসংখ্য প্রতিশ্রুতির কারণে জনগণের মধ্যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে—আগামী পাঁচ বছরের কোন সময়ে কোন কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
জনগণকে নির্দিষ্ট সময়সীমা (Timeline) প্রদান করা উচিত যাতে আস্থার সংকট তৈরি না হয়। অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে কেবল বাজেট নয়, বরং গভীর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান কোন পথে—তা দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশিদের সাথে চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি করা বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য জরুরি। ব্যাংকিং খাতের দুর্দশাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।
নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। ব্যবসা পরিচালনার দৈনন্দিন সমস্যা (Ease of Doing Business) সমাধান না হলে বিনিয়োগকারীরা অর্থ খরচ করতে চাইবেন না। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে সরকার যদি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারে, তবেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
জাহিদ হোসেন (সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক) বলেন, "নির্বাচনের মাধ্যমে বড় অনিশ্চয়তা কেটেছে ঠিকই, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে ইতিবাচক সংস্কারের শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে।"