প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান জানান, তিন মহাদেশে বিস্তৃত একটি বহুজাতিক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী ‘নগদ’-এ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তিনি উক্ত বিনিয়োগকারীর স্থানীয় সমন্বয়ক ও আইনজীবী হিসেবে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেছেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি চেয়েছিলেন।
গভর্নরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, "নতুন সরকার আসার পর নগদের ভবিষ্যৎ নীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।"
সংসদ সদস্য হয়ে একটি বহুজাতিক সংস্থার পক্ষে ওকালতি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আরমান বলেন, "রাজনীতি করি জনগণের সেবার জন্য, কিন্তু সংসার চালানোর জন্য আইন পেশায় নিয়োজিত থাকতে হয়। সংসদ সদস্যরা আইন পেশায় থাকবেন—এই রীতি আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই।" তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তরিক এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এর কোনো বিকল্প নেই।
নগদের বর্তমান পরিস্থিতি:
আর্থিক জালিয়াতি: নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে অতিরিক্ত ই-মানি তৈরি করা হয়েছে।
হিসাবহীন অর্থ: প্রায় ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার হিসাব মিলছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আইনি পদক্ষেপ: জালিয়াতির অভিযোগে ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যবস্থাপনা সংকট: প্রশাসক নিয়োগের আগেই নগদের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে পরিচালিত ‘নগদ’-এ সম্প্রতি বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।