প্রকাশিত:
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, এনসিটি প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্টের রায় ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অরাজকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়:
মিছিল-মিটিং এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান ‘পেশাগত অসদাচরণ’ ও ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী’ কাজ।
এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও শ্রমিক নেতারা তাঁদের ঘোষিত কর্মসূচি পালনে অনড় রয়েছেন। আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার প্রতিদিন সকাল থেকে এই কর্মবিরতি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শ্রমিকদের আপত্তির মূল জায়গাগুলো হলো: ১. দরপত্রহীন চুক্তি: কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়াই টার্মিনালটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। ২. হস্তান্তর প্রক্রিয়া: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার বিরোধিতা করছেন শ্রমিকরা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্কপ নেতা নুরুল্লা বাহার এবং বন্দর শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন খোকন জানিয়েছেন, বন্দর এলাকায় সেনা, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কোনো আলোচনার সুযোগ না থাকায় তাঁরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শ্রমিকদের এই কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য খালাস ও কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রবিবারের পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট কার্যকর হলে বন্দরের প্রধান গেটগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, এনসিটি টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম লাভজনক অংশ। শ্রমিকদের আশঙ্কা, বিদেশি কোম্পানির কাছে এর নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং বন্দরের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।