প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও ২০২৯ সালের পর তা আর থাকছে না। ইইউ-এর সাথে নতুন কোনো চুক্তি না হলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতের বর্তমান ১২ শতাংশ শুল্ক ইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে শূন্যে নেমে আসবে। একই সঙ্গে ভিয়েতনামও ২০২৭ সালের মধ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেতে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
রপ্তানি বাজারের এই উদ্বেগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থাও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত:
জ্বালানি সংকট: শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
আর্থিক চাপ: ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবকাঠামো ও দক্ষতা: উন্নত অবকাঠামোর অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কারিগরি শ্রমিকের ঘাটতি প্রকট।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, ভারত তুলার (কটন) ওপর যে বিশাল সরকারি সহায়তা পায়, তা তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, "ইউরোপের বাজার প্রায় ২০০-২৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। তাদের এই বর্ধিত বাজার হিস্যা আমাদের মতো দেশগুলোর রপ্তানি থেকেই কমবে।"
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে দুটি পদক্ষেপ নিতে হবে:
১. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস (GSP+) সুবিধা পেতে জোরালো আলোচনা করা।
২. বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করা।
অন্যথায়, ২০২৬ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর।