প্রকাশিত:
২৯ নভেম্বর, ২০২৫

শনিবার ২৯ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত 'চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫' অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখন ক্রেডিট গ্রোথ জেনেরালি স্লো, এজন্য ব্যবসায়ীরা সময় নিচ্ছেন। সময় নেওয়াটাও সঙ্গত, কারণ তারা বুঝতে চান দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। আগে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বড় একটা ইস্যু ছিল, ১২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ছিল, আজকের দিনে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাচ্ছে। নির্বাচনের পরে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।'
ডলার বাজার ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নিয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, 'ডলার মার্কেটে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হচ্ছে না। এটা বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। বছরে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার ও ৩০ বিলিয়নের রেমিট্যান্স আয় হয়। আমদানি প্রতি মাসে ৫ বিলিয়নের মত হচ্ছে। তাহলে বছরে ৭০-৮০ বিলিয়ন আয় হয় আর ৭০ বিলিয়ন খরচ হয়। যেটা অনেক ভালো বলা যায়। এতে এক রকমের শৃঙ্খলা আসছে।'
ব্যাংকিং খাতের লেনদেন ও ঘাটতি কমে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'প্রতিদিন ব্যাংক টু ব্যাংক, ইন্টার ব্যাংক (আন্তঃলেনদেন) মার্কেটে ৫০ মিলিয়নের মত লেনদেন হয়। এর সাথেই কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ৪০০ মিলিয়ন ঘাটতি রয়েছে। আবার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে দেড় বিলিয়ন ডলার সারপ্লাস রয়েছে। এখানে আরও ভালো হবে বলে আমি আশা করি।'
রিজার্ভ মানি ও ট্রেজারি বিল বন্ড বিষয়ে তিনি বলেন, 'রিজার্ভ মানি কমে আসছে। এখন ৩ লাখ কোটির মত। আগের সরকার ট্রেজারি বিল-বন্ড নিজের ওপর ডিভোলড করত, যা এখন আর হচ্ছে না। আগের সরকার নিজেরাই এসব ট্রেজারি বিল বন্ড কিনত। তাতে রিজার্ভ মানি কমেছে। আমানতের প্রবৃদ্ধি একটু কম, তবে প্রায় ১০ শতাংশ।'
ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক ঋণের প্রবৃদ্ধি (ওভারঅল ক্রেডিট গ্রোথ) কম হলেও সিটি ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি ভালো বলে জানান তিনি। টপ টিয়ার ব্যাংকগুলোর (আর্থিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সেরা ব্যাংক) উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'এসব ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ ভালো হচ্ছে।'