প্রকাশিত:
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১. ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা ও খেলাপি ঋণের রেকর্ড
ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবে খেলাপি ঋণের হার এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৭৩ শতাংশ, যা অংকে প্রায় ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেনামি ঋণ ও অর্থ পাচারই এই সংকটের মূল কারণ। বিশেষ করে এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অন্তত ৫-৬টি ব্যাংক বর্তমানে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
২. ব্যাংক একীভূতকরণ: ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’
সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে (ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক) একীভূত করে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি' গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এই ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৫ লাখ হিসাবধারী এবং ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে।
এছাড়া আরও ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই জটিল প্রক্রিয়াগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
৩. জরুরি সংস্কার ও আইনি ভিত্তি
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম ও ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের মতে, ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরাতে নতুন সরকারকে অবিলম্বে কয়েকটি কাজ করতে হবে:
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
আইন সংশোধন: ব্যাংক কোম্পানি আইন ও অর্থ ঋণ আদালত আইন সংস্কার করে খেলাপিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
পলাতকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত: যারা ব্যাংক লুট করে বিদেশে পালিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাচার করা অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।
ব্যবসায়িক পরিবেশ: সুদহার কমিয়ে এবং ঋণ প্রাপ্তি সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চাঙা করা।
৪. কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
আর্থিক খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগ এখন মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব।
নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম লক্ষ্য হতে হবে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় সচল করে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অধ্যাপক মইনুল ইসলাম, সাবেক অধ্যাপক, (অর্থনীতি বিভাগ, চবি) বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার অনেক সংস্কার শুরু করলেও আইনি ভিত্তির অভাবে তা শেষ করতে পারেনি। নতুন সরকারের উচিত হবে শুরুতেই আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করা এবং আর্থিক অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।"