প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

বিদেশগামী যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট (Endorsement) করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আর যথেচ্ছ মাশুল আদায় করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এনডোর্সমেন্ট ফি বাবদ ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট করার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল আদায় করছিল। এমনকি অনেক ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট রসিদ ছাড়াই বাড়তি টাকা দাবি করত। এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে এবং গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশে গমনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা, নোট, কয়েন ও ট্রাভেলার্স চেক (টিসি) বিক্রি করতে পারে। প্রতিটি বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ (এনডোর্সমেন্ট) করা এবং মানি চেঞ্জারের অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।এনডোর্সমেন্ট ফি হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নেওয়া যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, এই সীমার বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না।
এছাড়াও প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে এই এনডোর্সমেন্ট ফির চার্ট বা তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে ফি সংগ্রহের পর অবশ্যই তাকে একটি লিখিত রসিদ প্রদান করতে হবে। নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এই ফির সঠিক হিসাব এবং নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন সাধারণ পর্যটক, রোগী এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যারা প্রতিবার বিদেশ ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি।