প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

জাপানের রাজধানী টোকিওতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি সই হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া আর কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যচুক্তি নেই। জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া শুরু করবে।
এই বাণিজ্যচুক্তির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে জাপানই বাংলাদেশের বড় বাজার হয়ে উঠবে। তবে কিছু ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করবে। এর ফলে অনেক উন্নত রাষ্ট্রে বাংলাদেশ বর্তমানে যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা (GSP) পায়, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে এলডিসি উত্তরণের পরও জাপানি বাজারে বাংলাদেশের এই বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো কেবল বহালই থাকবে না, বরং আরও বিস্তৃত হবে।
চুক্তির প্রথম দিন থেকেই জাপানের বাজারে বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) অন্যতম। ইপিএ-র মাধ্যমে একটি আইনি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে, যা জাপানি জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে আকিজ-জেটিআই বা হোন্ডার মতো বড় বিনিয়োগের পর এখন হাই-টেক পার্ক এবং অটোমোবাইল শিল্পে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতেও বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আইটি বিশেষজ্ঞ, নার্সিং এবং লজিস্টিকসসহ ১২০টি উপখাতে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির জন্য জাপানের দরজা খুলে যাচ্ছে। জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার ও তাদের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশের দেশীয় শিল্পগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এটি বাংলাদেশের সামনে পণ্য রপ্তানির জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। জাপান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) দেওয়া এক নোটিফিকেশনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি ও এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলোকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইপিএকে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছে। কারণ, জিএসপি সাময়িক হলেও ইপিএ একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইপিএ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে খাতভিত্তিক প্রস্তুতি, শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাজস্ব কাঠামোয় সংস্কার জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ বাংলাদেশের জন্য এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বড় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করার ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে ইপিএ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি দর-কষাকষি করার পুল তৈরি হচ্ছে, যা পরে অন্যান্য দেশ বা অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।